কে এই তারকা? ৫০০ মঞ্চে নৃত্য, দুই হাজার নাটকে অভিনয় করেছেন

· Prothom Alo

আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসে নিজের ছোটবেলার একটি ছবি শেয়ার করে স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন তিনি। সেই ছবিকে ঘিরেই নতুন করে সামনে এসেছে তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবনের গল্প—যা অবাক করার মতোই। তাঁর নৃত্য শিল্পীজীবনের শুরুটা ‘সংগীত ভবন’-এ।

সেখানে টানা সাত বছর নাচ শেখার অভিজ্ঞতাকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শৈশবেই তিনি পেয়েছেন দেশের খ্যাতিমান নৃত্যগুরুদের সান্নিধ্য, যাঁদের মধ্যে শিবলী মোহাম্মদের কাছে কত্থক, বেলায়েত হোসেন খানের কাছে ভরতনাট্যম এবং তাঁর মা, একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতউল্লাহর কাছে দেশীয় লোকজ নৃত্যের হাতেখড়ি। পরবর্তী সময়ে নৃত্যগুরু শুক্লা সরকারের কাছেও কিছুদিন তালিম নিয়েছেন।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

বিজরী বরকতউল্লাহ

তিনি নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাহ। এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তাঁর বাবা মো. বরকতউল্লাহ। পরিবারের এ অনুপ্রেরণাই তাঁকে আজকের বিজরী হয়ে ওঠার শক্তি জুগিয়েছে। ছোটবেলার সেই ছবির প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি তাঁর জীবনের প্রথম দিকের একটি মঞ্চ পরিবেশনার স্মৃতি। বয়স তখন মাত্র ১১ বা ১২। ঢাকার জার্মান কালচারাল সেন্টারে ‘সংগীত ভবন’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি নেচেছিলেন ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে, কে যে নাচে…’ গানটির সঙ্গে। সেই স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অমলিন।

বিজরী বরকতউল্লাহ

নৃত্যশিল্পী হিসেবে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মঞ্চে পারফর্ম করেছেন বিজরী বরকতউল্লাহ। তাঁর ভাষায়, ‘পাঁচ শতাধিক মঞ্চে নেচেছি। সরকারি-বেসরকারি নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। টেলিভিশনের পাশাপাশি বেতারেও নাচের অনুষ্ঠান করেছি।’ প্রতিটি মঞ্চই তাঁর কাছে একেকটি স্মৃতি, একেকটি অভিজ্ঞতা।

বিজরী বরকতউল্লাহ

শুধু নাচেই নয়, অভিনয়েও রয়েছে বিজরীর সমান সাফল্য। একেবারে আকস্মিকভাবেই অভিনয়ে আসা। বিটিভিতে ‘নৃত্যের তালে তাল তালে’ অনুষ্ঠানের নাচের মহড়ায় গিয়ে কথা হয় অভিনেত্রী জাহানারা আহমেদের সঙ্গে। তাঁর অনুরোধেই ‘সুখের ছাড়পত্র’ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান বিজরী। সেখানে আফজাল হোসেনের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেই শুরু—এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

নৃত্যগুরু শিবলী মোহাম্মদের সঙ্গে বিজরী বরকতউল্লাহ

নাটকে অভিনয়ের প্রসঙ্গটি মনে করে বিজরী বলেন, ‘আমাকে যে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেই চরিত্রের অভিনয়শিল্পী আমি ছিলাম না। এটা হুট করেই করা। যেদিন বিটিভিতে নাচের অনুষ্ঠানের মহড়া করি, সেদিন জাহানারা আহমেদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জানতে পারি, যাঁর অভিনয় করার কথা ছিল, তিনি আসেননি। তিনি এই নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। বাবা মো. বরকতউল্লাহর “সুখের ছাড়পত্র” নাটক দিয়েই তাই আমার অভিনয়ের শুরু।’

বয়স তখন মাত্র ১১ বা ১২, ঢাকার জার্মান কালচারাল সেন্টারে ‘সংগীত ভবন’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে নেচেছিলেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী বিজরী বরকতউল্লাহ

বিজরী জানান, টানা ৩৮ বছরের অভিনয়জীবনে খণ্ড নাটক ও ধারাবাহিক মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। এখনো সমানভাবে কাজ করছেন নাচ ও অভিনয়ে। বিশ্ব নৃত্য দিবসে তিনি তাঁর সব গুরু ও সহশিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

Read full story at source