ছদ্মনামে নিতেন গৃহকর্মীর কাজ, এরপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে করতেন একের পর এক চুরি

· Prothom Alo

  • গৃহকর্মী বিলকিস বেগম একেক বাসায় একেক নাম ব্যবহার করতেন।

  • একটি ঘটনায় ঘুমের ওষুধের ডোজ বেশির কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    Visit h-doctor.club for more information.

  • প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাতটি চুরির কথা স্বীকার করেছেন বিলকিস।

  • বিলকিসের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। এমনকি তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্টও পাওয়া যায়নি।

খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাসার মানুষদের অচেতন করে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন গৃহকর্মী বিলকিস বেগম। চুরি করতে গিয়ে করেছেন খুনও। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চুরি করতে তিনি ছদ্মনাম ধারণ করে গৃহকর্মীর কাজ নিতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েত হোসেন মান্নান। চেতনানাশক ব্যবহার করে ক্রমিক চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা করে এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত বছরের ১৩ আগস্ট উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর এলাকায় ইবনুল আলম পলাশের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজের খোঁজে যান আঞ্জুমান। প্রথমে ওই বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেনের কাছে কাজ চান তিনি। পরে জাকির হোসেন তাঁকে ইবনুলের কাছে নিয়ে যান। কথাবার্তার একপর্যায়ে পরদিন থেকেই আঞ্জুমানকে কাজে যোগ দিতে বলেন ইবনুল। সঙ্গে করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) একটি ফটোকপি আনতে বলেন তিনি। কিন্তু পরদিন কাজে এসে আঞ্জুমান জানান, তিনি পরিচয়পত্র আনতে ভুলে গেছেন। এনআইডি অন্যদিন নিয়ে আসবেন।

এনায়েত হোসেন আরও জানান, গৃহকর্তা ইবনুল আলম ও তাঁর স্ত্রী দুজনে চাকরিজীবী। ওই দিন সকালে দুজনেই অফিসে চলে যান। কিন্তু ইবনুলের মা রওশনারা বেগম (৬৬) বাসায় ছিলেন। সকালে তাঁর নাশতার জন্য রুটি ও আলুভাজি তৈরি করেন আঞ্জুমান। কিন্তু কৌশলে ভাজির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রওশনারাকে অচেতন করে তাঁর হাতের সোনার বালা, কানের দুল, তিন হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ওই গৃহকর্মী। বিকেলে বাসায় ফিরে ইবনুল তাঁর মাকে অচেতন অবস্থায় দেখে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৯ দিন ধরে চিকিৎসার পর সুস্থ হন রওশনারা বেগম। পরে ইবনুল বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ কয়েক মাস ধরে মামলাটি তদন্ত করলেও আসামি শনাক্ত করতে না পেরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

কখনো মারুফা, কখনো আঞ্জুমান আবার কখনো বিলকিস বেগম হিসেবে পরিচয়ে দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নিতেন এই নারী।

এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আদালতের নির্দেশ পেয়ে ফের মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। ঘটনাস্থলের সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তাঁরা আসামিকে শনাক্ত করতে পারছিলেন না। এমতাবস্থায় চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরাতেই অজ্ঞান করে চুরি করতে গিয়ে একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই হত্যায় জড়িত থাকায় বিলকিস বেগম (৪০) নামের এক গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। দুটি ঘটনায় মিল থাকায় বিলকিস বেগমের ছবি ইবনুল ও তাঁর পরিবারকে দেখানো হয়। ছবি দেখেই তাঁকে শনাক্ত করেন তাঁরা। তবে দুই ঘটনায় একই ব্যক্তি জড়িত থাকলেও ভিন্ন ভিন্ন নামের বিষয়টি তখন জানতে পারেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

বিলকিস বেগম অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন উল্লেখ করে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁকে শনাক্ত করার পর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি ইবনুল আলমের বাসায় চুরির সঙ্গেও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। শুধু এই দুটি ঘটনায় নয়, গত ৫-৬ বছরে ঢাকার উত্তরা, হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে সাতটি চুরির কথা স্বীকার করেছেন তিনি, যার মধ্যে উত্তরায় একটি চুরির ঘটনায় ঘুমের ওষুধের ডোজ বেশি হওয়ায় ভুক্তভোগীর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।

এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, বিলকিস বেগম একেক ঘটনায় একেক নাম ধারণ করেন। কখনো মারুফা, কখনো আঞ্জুমান আবার কখনো বিলকিস বেগম হিসেবে পরিচয়ে দিয়ে চাকরি নিতেন তিনি। তাঁর কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। এমনকি তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্টও পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী বলেন, তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ধারণ করে কাজ নেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য চুরি করা। এ জন্য তিনি ছবি, এনআইডি এবং মুঠোফোন নম্বরও দেন না। এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ করেন।

Read full story at source