কেন কিছু মানুষ চোখের সামনে থাকা জিনিস খুঁজে পায় না

· Prothom Alo

তোমার কি কখনো এমন হয়েছে, আম্মু একটা জিনিস খুঁজতে পাঠাল আর তুমি হন্যে হয়ে খুঁজেও সেটা পেলে না? কিন্তু তুমি অবাক হয়ে দেখলে, আম্মু ঘরে আসা মাত্রই একদম তোমার চোখের সামনে থেকে জিনিসটা খুঁজে বের করল। তখন মনে হয়, আমি কি তবে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম?

Visit bettingx.club for more information.

আসলে তুমি অন্ধ হওনি, বরং তোমার মস্তিষ্ক একটু ফাঁকিবাজি করেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ভিজ্যুয়াল সার্চ’ বা চোখ দিয়ে কোনো কিছু খোঁজা। আমাদের মস্তিষ্ক এমনিতে অনেক বুদ্ধিমান হলেও এই খোঁজার কাজে মাঝে মাঝে বেশ কাঁচা। তাই কোনো জিনিস একদম চোখের সামনে থাকলেও আমাদের মস্তিষ্ক সেটাকে দেখতে পায় না।

আসলে আমরা যখন কোনো কিছু খুঁজি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই দৃশ্যের প্রতিটি বস্তুকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারে না। সব তথ্য একসঙ্গে নিতে গেলে মস্তিষ্কের ওপর অনেক চাপ পড়ে। তাই মস্তিষ্ক কেবল মনোযোগের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। অর্থাৎ সে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ জিনিসের রং বা আকার বেছে নেয় এবং বাকি সবকিছুকে বাদ দিয়ে দেয়।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল উত্তোলন কেন্দ্রগুলো কোথায় অবস্থিত

মনোবিজ্ঞানীরা আমাদের এই মনোযোগকে একটি স্পটলাইট বা টর্চের আলোর সঙ্গে তুলনা করেন। টর্চের আলো যেখানে পড়ে, সেখানকার তথ্যগুলোই কেবল মস্তিষ্ক বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে। সেই আলোর বৃত্তের বাইরে যা কিছু থাকে, তা আমাদের চোখের সামনে থাকলেও মস্তিষ্ক সেগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। এ কারণেই আমরা অনেক সময় না দেখেই খুঁজতে থাকি এবং সামনে থাকা জিনিসটি আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।

আমাদের মস্তিষ্ক যে ক্রমাগত চোখের দৃষ্টি পরিবর্তন করে, তার পেছনে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক কারণ রয়েছে। আমাদের চোখের রেটিনার ঠিক মাঝখানে ‘ফোভিয়া’ নামক একটি অংশ থাকে, যা আমাদের সবচেয়ে পরিষ্কার বা স্পষ্ট দেখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই অংশটি এতটাই ছোট যে, এটি আপনার হাতের নখের সমান জায়গাটুকুই কেবল স্পষ্ট দেখতে পায়। তাই পুরো একটি দৃশ্য ভালোভাবে দেখার জন্য আমাদের চোখকে বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তাকাতে হয়, যাতে ছোট এই অংশের মাধ্যমে চারপাশের সব তথ্য স্পষ্টভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে।

চোখের এই দ্রুত লাফালাফিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্যাকাড’ (Saccade)। এটি প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এমনকি তুমি যখন মনে করো যে তুমি কোনো জিনিসের দিকে একদম স্থির হয়ে তাকিয়ে আছো, তখনো আসলে তোমার চোখ স্থির থাকে না। তোমার অজান্তেই চোখ খুব দ্রুত এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে ছুটে বেড়ায়।

দান হিসেবে পাওয়া কিডনি কি তৃতীয় ব্যক্তিকে দান করা যায়

বেশির ভাগ সময় চোখের এই পদ্ধতিটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। এর ফলে আমরা চারপাশের হিজিবিজি পরিবেশের ভেতর থেকেও দরকারি তথ্যগুলো চট করে আলাদা করে নিতে পারি। বাড়তি বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড়ে আমরা যাতে বিভ্রান্ত না হই ও সহজে চলাফেরা করতে পারি, সে জন্যই মস্তিষ্ক এভাবে কাজ করে।

মনোবিজ্ঞানীরা আমাদের এই মনোযোগকে একটি স্পটলাইট বা টর্চের আলোর সঙ্গে তুলনা করেন

আসলে দেখা মানেই কেবল চোখে আলো এসে পড়া নয়। আমাদের মস্তিষ্ক আগে থেকে কী দেখার আশা করছে বা কিসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও দেখার একটি বড় অংশ। অনেক সময় সরাসরি চোখের সামনে থাকা জিনিসও আমরা খেয়াল করি না, কারণ আমাদের মন তখন অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাকে। অদ্ভুত এই ঘটনাকেই বলা হয় অমনোযোগজনিত অন্ধত্ব বা ইনঅ্যাটেনশনাল ব্লাইন্ডনেস।

আমাদের মস্তিষ্কের ভেতর তথ্যগুলো বিভিন্ন পথে প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ‘ডরসাল স্ট্রিম’, যা মস্তিষ্কের প্যারাইটাল লোব নামক অংশে গিয়ে পৌঁছায়। এই অংশটিই আমাদের চারপাশের জায়গা সম্পর্কে ধারণা দেয় ও কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। কোনো কিছু খোঁজার সময় এই ডরসাল স্ট্রিমই ঠিক করে দেয়, মস্তিষ্ক কোন বস্তুটিকে গুরুত্ব দেবে আর কোনটিকে বাদ দেবে। এসব কারণে মাঝেমধ্যে চোখের সামনে থাকা জিনিসও খুঁজে পায় না।

সূত্র: দ্য কনভারসেশনকড়া রোদে সানস্ক্রিন যেভাবে আমাদের বাঁচায়

Read full story at source