ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই দলকে কাঁদিয়ে ইতিহাস গড়ল জার্মানি
· Prothom Alo

৬৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফিরল ব্রাজিলে। ১৯৫০ সালে শেষবারের মতো নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। সেবার এক ট্র্যাজেডি দিয়ে শেষ হয়েছিল ব্রাজিলের যাত্রা। সেই ট্র্যাজেডির পর একে একে পাঁচবার বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে এনেছে ব্রাজিল। এত দিন পর নিজেদের মাটিতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আয়োজন যে তাদের আরেক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি করবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি কেউ।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
প্রতিটি মহাদেশে একটি বিশ্বকাপ—এই মন্ত্র নিয়ে শুরু হওয়া ফিফার বিশ্বকাপ রোটেশন পলিসিতে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ ফেরে লাতিন আমেরিকায়। মূলত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও অর্থনৈতিক কারণে লাতিন আমেরিকা থেকে অনেক বছর দূরে ছিল বিশ্বকাপ। ২০০৭ সালে সবকিছু ছাপিয়ে ব্রাজিলে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। যদিও বিশ্বকাপের বছরখানেক আগে ব্রাজিলের রাজনৈতিক সহিংসতা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল ফিফার কপালে। কিন্তু তা সহজেই কাটিয়ে ওঠে তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক বিশ্বকাপ উপহার দেয় বিশ্বকে।
ইতালি কেন বারবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে? ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের পোস্টার।এই বিশ্বকাপে যুক্ত হয় বিভিন্ন প্রযুক্তি। ২০১০ বিশ্বকাপে ল্যাম্পার্ডের গোল বাতিল বিতর্ক থামাতে যুক্ত হয় গোললাইন টেকনোলজি। যাতে বল গোললাইন পার হলেই ভাইব্রেট করে উঠবে রেফারির ঘড়ি। ফলে গোল মিস হওয়ার আর সুযোগ নেই। অন্যদিকে ব্রাজিলের অতিরিক্ত গরম থামাতে যুক্ত হয় কুলিং ব্রেক। দুই অর্ধের ২৫ মিনিট পর ২ মিনিটের কুলিং ব্রেক পাবেন খেলোয়াড়েরা। এ ছাড়া বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ডোপ টেস্ট করা হয়, যা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখেও পড়ে ফিফা।
জার্মানির কাছে সাত গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর হতাশ ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা।কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই সব সমালোচনা থেমে যায় নিমেষেই। প্রথম রাউন্ডেই একের পর এক চমক উপহার দেয় বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন বাদ পড়ে প্রথম পর্বেই। অন্যদিকে বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ ছিল ইংল্যান্ড, ইতালি, উরুগুয়ে আর কোস্টারিকা। আর এই গ্রুপেই পৃথিবী সাক্ষী হয় অদ্ভুত এক ঘটনার। ইতালিয়ান ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দিয়ে বসেন লুইস সুয়ারেজ। কামড়-কাণ্ডে অবাক হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। আরও অবাক হয় যখন ইংল্যান্ড, ইতালিকে সরিয়ে পরের পর্বের টিকিট পায় কোস্টারিকা। রাতারাতি বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স বনে যায় কোস্টারিকা। গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে দলটি জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি থামিয়ে দিলে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আর পেরে ওঠেনি কোস্টারিকা। কোয়ার্টারে শেষ হয় বিশ্বকাপের ডার্ক হর্সদের যাত্রা।
বিশ্বকাপের বাকি আর ৫০ দিন, ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে স্বাগতঅন্যদিকে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের রাস্তায় কাঁটা হয়ে দাঁড়ান কলম্বিয়ান ফুটবলার হুয়ান জুনিগা। তাঁর করা ফাউলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান নেইমার। আর সেই সঙ্গে ব্রাজিলের আশাও। কিন্তু নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে হারিয়ে এভাবে ভেঙে পড়বে ব্রাজিল, তা হয়তো কল্পনাও করেনি কেউ। সেমিতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল জার্মানি। বাকিটা তো সবারই জানা। একে একে ব্রাজিলের জালে মোট সাত গোল দিয়েছিলেন ক্রুস-মুলাররা। প্রত্যেক ব্রাজিলিয়ানের মনে দাগ কেটে রয়েছে সেই স্কোরলাইন। শেষ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোল করেন অস্কার। কিন্তু তাতে ক্ষত যা হওয়ার, তা হয়েই গিয়েছিল। মারাকানাজোর পর মিনেরাইজো ট্র্যাজেডি হয়ে রইল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অংশ। যে অংশটা আজীবন ভুলে থাকতে চাইবে তারা।
গোটশের সেই ভলি।ব্রাজিলের পর জার্মানির শিকারে পরিণত হলো আর্জেন্টিনাও। মারাকানার ফাইনালে লেখা হলো আরেক আর্জেন্টাইন ট্র্যাজেডির গল্পগাথা। বিশ্বকাপজুড়েই দুর্দান্ত ফর্মে ছিল জোয়াকিম লোর জার্মানি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা ছিল জায়ান্ট কিলার মুডে। আর বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলে জার্মানির কাঁধে কী ভূত চাপে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না। ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে পেয়ে যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল তারা। শেষ মিনিট পর্যন্ত স্নায়ু ধরে রেখে সে ফাইনালটাও নিজেদের করে নিল জার্মানি। দুই দলের লড়াই চলছিল সমানে সমানেই। প্রথম ৯০ মিনিট শেষ হয়েছিল গোলশূন্য অবস্থায়। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারদের একের পর এক মিস সুযোগ করে দিয়েছিল জার্মানিকে। আর ১১৬ মিনিটে সে সুযোগটা ছাড়েননি মারিও গোটশে। এক ভলিতে আর্জেন্টিনার জালে প্রথম ও শেষ পেরেক ঠুকে দেন গোটশে।
গোটশের এক গোলই যথেষ্ট ছিল জার্মানিকে ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর জন্য। জার্মানির নামের পাশে তিনটি বিশ্বকাপ থাকলেও সব কটি ছিল বার্লিনের পশ্চিম পাশের অর্জন করা শিরোপা। কিন্তু প্রথমবারের মতো অবিভক্ত জার্মানিকে বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দিলেন গোটশে। অন্যদিকে লিওনেল মেসি জায়গা করে নিলেন পুসকাস, ক্রুইস, ম্যারাডোনার সঙ্গে ইতিহাসের ছোট্ট তালিকায়, যে মহাতারকাদের হারিয়ে জার্মানি বাড়ি ফিরেছিল বিশ্বকাপ হাতে।
হোঁচট খেয়ে শুরু, বিশ্বজয়ে শেষ আর্জেন্টিনার