কাউন্টি ক্রিকেট না আইপিএল—বেথেলকে নিয়ে মুখোমুখি পিটারসেন–কুক

· Prothom Alo

অ্যালিস্টার কুকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও উসকে দিলেন কেভিন পিটারসেন। জ্যাকব বেথেল আইপিএলে পানি না টেনে কেন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলছেন না—কুকের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন পিটারসেন।

Visit truewildslot.com for more information.

গত ১৮ মাসে বেথেল বেশ আলোচনায় এসেছেন। সিডনিতে সর্বশেষ অ্যাশেজে শেষ টেস্টে ১৫৪ রানের ঝলমলে ইনিংসসহ ক্রিকেটের তিন সংস্করণে সেঞ্চুরি করা ইংল্যান্ডের হাতে গোনা কয়েকজন ব্যাটসম্যানের তালিকায় এখন তাঁর নাম। এতে অদূর ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে তাঁর জায়গাও প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ না খেলে বেথেল ইংলিশ গ্রীষ্মের এই শুরুর সময়ে যোগ দিয়েছেন আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে।

আইপিএলে এরই মধ্যে ৬ ম্যাচ খেলেছে বেঙ্গালুরু। কিন্তু বেথেল এখনো খেলার সুযোগ পাননি। ছোটখাটো চোটের সঙ্গে দলীয় সমন্বয়ও এর কারণ। তবে ইংল্যান্ডের আরেক ব্যাটসম্যান ফিল সল্ট চোটে পড়ায় শিগগিরই হয়তো বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন বেথেল।

‘স্টিক টু ক্রিকেট’ পডকাস্টে আলাপকালে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কুক আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বেথেলকে ইংল্যান্ডের ওপেনার হিসেবে খেলানোর প্রস্তাব তোলেন। তবে বর্তমানে খেলার মধ্যে না থাকায় সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কুক বলেন, ‘সিডনিতে যে কন্ডিশনে যেভাবে সে (বেথেল) ব্যাটিং করেছে, তাতে আমার মনে হয়েছে, সে ওপেন করতে পারবে। যে তিন নম্বরে নামতে পারে, সে ওপেনও করতে পারে।’

আইপিএলে গত মৌসুমে ২ ম্যাচ খেলেন বেথেল

কুক এরপর যোগ করেন, ‘কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে নেই। সে তো ওপেনিংয়ে খেলছে না। আইপিএলে সে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে, কিছুই করছে না। আদর্শ ব্যাপার হতো যদি সে দেশে ফিরে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ওপেন করত, যা ইংল্যান্ডের জন্যই ভালো হতো।’

আইপিএলে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে পাঁচ মৌসুম খেলেছেন পিটারসেন। তাঁকে আইপিএলে ইংলিশ ক্রিকেটারদের পথপ্রদর্শকও বলা হয়। পিটারসেন কুকের এমন মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মতে, একাদশে সুযোগ না পেলেও এই টুর্নামেন্টে থাকাটা বেথেলের জন্য লাভজনকই হবে। পিটারসেনের এমন পাল্টা অবস্থানে তাঁদের এক দশকেরও বেশি পুরোনো বিরোধের আগুনে যেন আবার ঘি পড়ল।

র‍্যাঙ্কিংয়ে স্বস্তি মিলেছে, এখন বাংলাদেশের চাওয়া কী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিটারসেন লিখেছেন, ‘আইপিএলের পরিবেশ কেমন, সে সম্পর্কে অ্যালিস্টার কুকের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সান্নিধ্যে থাকার অভিজ্ঞতা কেমন, তা-ও সে জানে না।’

বেথেল প্রসঙ্গে পিটারসেন আরও লেখেন, ‘তাই জ্যাকব বেথেলকে নিয়ে তাঁর (কুক) মতামতের কোনো মূল্যই নেই। জ্যাকব, তুমি ভারতেই থাকো। আমি জানি, তুমি একাদশে না থাকলেও অনেক কিছু শিখছ এবং এতে তুমি আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।’

কাউন্টি ক্রিকেটের বর্তমান মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পিটারসেন, ‘কাউন্টি ক্রিকেটের মান যদি নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ বা ২০০০ সালের শুরুর দিকের মতো শক্তিশালী হতো, তবে আমিও চাইতাম বেথেল ফিরে এসে সেখানেই খেলুক। কিন্তু এখন সেই দিন আর নেই। বরং বেথেলের ভারতে থাকাটাই ইংল্যান্ডের জন্য বেশি মঙ্গলজনক হবে, আর সেটি সে এরই মধ্যে প্রমাণও করেছে।’

এক নেটিজেনের মন্তব্যের জবাবে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান পিটারসেন বলেন, ‘সে (বেথেল) মানসিকতা, অনুশীলনের ধরন, বাইরের শোরগোলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াসহ আরও অনেক কিছু শিখছে। এই শেখার তালিকার কোনো শেষ নেই।’

২০০৬ সালে কুকের অভিষেকের পর থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুমের বিপর্যয়কর অ্যাশেজ সিরিজ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলে সতীর্থ ছিলেন পিটারসেন ও কুক। সেই সিরিজের পরই দল থেকে বাদ পড়েন পিটারসেন। ২০১২ সালের আলোচিত ‘টেক্সট-গেট’ কেলেঙ্কারির পর পিটারসেনকে দলে ফেরাতে ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে দল থেকে চিরতরে ছেঁটে ফেলার পেছনেও তৎকালীন অধিনায়ক কুকের ভূমিকা ছিল।

নাহিদ রানার বয়স মাত্র ২৩, জেনে অবাক টম ল্যাথাম

গত বছর আইপিএলে বেঙ্গালুরুর হয়ে ২ ম্যাচ খেলা বেথেলও ব্যাপারটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে বেথেল বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না এর কোনো ধরাবাঁধা ঠিক বা ভুল উপায় আছে। ব্যক্তিগতভাবে গত বছর আমি দেখেছি, কিছুদিন খেলার বাইরে থাকায় ভারত সিরিজের শেষ দিকে নিজেকে কিছুটা অপ্রস্তুত মনে হয়েছিল। সেটি আমার জন্য একটা বড় শিক্ষা ছিল।’

বেথেল যোগ করেন, ‘তবে গতবার আইপিএল থেকে ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আমার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল। এবারও আমি একই রকম অনুভব করছি। ভারতের মাটিতে আইপিএলের মান এবং এখানকার খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আমি নিজেকে পরিণত করেছি।’

আইপিএলের আবহের গুরুত্বও বোঝান ২২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটিং অলরাউন্ডার, ‘এই টুর্নামেন্ট বা কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি না থাকলে রোমাঞ্চ বোঝা কঠিন। এখানকার পরিবেশটাই একদম আলাদা। টুর্নামেন্টের মান এত উঁচুতে যে অবচেতনভাবেই সবাই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে।’

বেথেল যুক্তি দেন, ‘কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চার রাউন্ড খেললে ক্রিজে যতটুকু সময় কাটানো যেত, এখানে হয়তো ততটা সম্ভব নয়। তবে অগণিত মানুষের সামনে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার যে সক্ষমতা, সেটি অর্জন করা আমার ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

Read full story at source