মাদ্রিদ পুলিশের ভাইরাল কুকুর পনচো
· Prothom Alo

২০১৮ সালে একদিন স্পেনের মাদ্রিদ মিউনিসিপাল পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রাইমারি স্কুলের একদল বাচ্চা ঘুরতে এসেছিল। ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে, সেটা ছোট বাচ্চাদের খুব সহজে আর মজার ছলে বোঝানোর জন্য পুলিশ বাহিনী এক বিশেষ মহড়ার আয়োজন করে। এই মহড়ায় শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসার নানা উপায় দেখাতে অংশ নেয় মাদ্রিদ পুলিশের প্রশিক্ষিত কুকুর পনচো! পনচো আট বছর বয়সী ককার স্প্যানিয়েল জাতের কুকুর।
সম্প্রতি সেই মহড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ইন্টারনেট–দুনিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশ অফিসার হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন, আর পনচো দৌড়ে এসে সামনের দুই পা দিয়ে তাঁর বুকে চাপ দিচ্ছে! পনচোর গায়ে পুলিশের একটা দারুণ ইউনিফর্ম বা হারনেস পরানো, আর তাতে সত্যিকারের পুলিশের মতো নীল রঙের বাতিও জ্বলছে! পনচো কিন্তু শুধু দাঁড়িয়ে থাকেনি বা ঘেউ ঘেউ করে সাহায্যের জন্য ডাকেনি। সে তার সামনের দুই পা দিয়ে ওই অফিসারের বুকের ওপর লাফাতে শুরু করে, ঠিক যেভাবে মানুষ হার্ট অ্যাটাক হলে সিপিআর দেয়! কিছুক্ষণ এমন করার পর পনচো থেমে যায় এবং তার কানটা অফিসারের গলার কাছে নিয়ে যায়। মনে হচ্ছে যেন সে শ্বাসপ্রশ্বাস বা পালস চেক করছে! এরপর আবার শুরু করে তার জীবন বাঁচানোর মিশন। ভিডিওর শেষের দিকে যখন ওই অফিসার উঠে বসেন, তখন খুশিতে পনচোর লেজ নাড়ানো দেখার মতো!
Visit cat-cross.com for more information.
বিদেশি সমুচা কীভাবে আমাদের নাশতা হলোঅনলাইন–দুনিয়ায় পনচোকে অনেকেই দক্ষ ডাক্তার কুকুর ভাবতে শুরু করেছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা আসলে দারুণভাবে শেখানো একটা ‘কৌশল’ বা ট্রিক, সত্যিকারের চিকিৎসাসেবা নয়। সত্যিকারের সিপিআর দিতে গেলে বুকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাপ দিতে হয় (প্রায় ২ ইঞ্চি) এবং মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার চাপ দিতে হয়, যাতে শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। একটি কুকুরের পায়ের পক্ষে এত নিখুঁতভাবে এই কাজ করা একেবারেই সম্ভব নয়। তাদের কাছে এই কঠিন ট্রেনিংগুলো আসলে প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। পুলিশ বা মিলিটারির ট্রেনিং শুনলেই আমাদের মনে হয়, অনেক কঠিন আর কঠোর কোনো রুটিন। কিন্তু পনচোর ট্রেইনাররা জানিয়েছেন, তাকে এই দারুণ কৌশল শেখাতে কোনো বকাঝকা করতে হয়নি। পুরো ট্রেনিং ছিল পনচোর কাছে একটা দারুণ মজার খেলা!
কুকুরদের যেকোনো কৌশল শেখানো হয় ‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট’–এর মাধ্যমে। এর মানে হলো, যখনই পনচো সঠিক জায়গায় লাফ দিত, তখন তাকে তার প্রিয় খেলনা দেওয়া হতো বা মজার কোনো খাবার দেওয়া হতো। বারবার এমন করায় পনচো বুঝতে পেরেছিল, অফিসারের বুকে লাফানো মানেই দারুণ কোনো পুরস্কার!
আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরবেন যেভাবেপনচো কিন্তু বাস্তবে সিপিআর দেয় না। তার আসল ডিউটি হলো বিস্ফোরক খুঁজে বের করা! সে লেজার লাইট ফলো করে নির্দিষ্ট জায়গায় তল্লাশি চালাতে বিশেষ পারদর্শী। ২০১৮ সালের জুনে যখন এই ভিডিও ভাইরাল হয়, তখন পনচোর বয়স ছিল আট বছর। পনচোর এ ভিডিওটি ২০ লাখের বেশি ভিউ পায় এবং সারা বিশ্বে কুকুর দত্তক নেওয়ার বিষয়ে দারুণ এক সচেতনতা তৈরি করে! মাদ্রিদ পুলিশ ভিডিওটি পোস্ট করার সময় বিখ্যাত রম্য লেখক জশ বিলিংসের একটা দারুণ উক্তি শেয়ার করেছিল, ‘কুকুরই পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী, যে নিজেকে যতটা ভালোবাসে, তার চেয়ে তোমাকে বেশি ভালোবাসে।’ এই একটি ইমোশনাল লাইন আর সঙ্গে #Adopta (দত্তক নাও) হ্যাশট্যাগটি মুহূর্তেই মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। সিবিএস নিউজ আর টাইম ম্যাগাজিনের মতো বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমও পনচোকে নিয়ে খবর ছাপে এবং ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন ভিউ পার করে ফেলে। ২০১৮ সালে প্রথম প্রকাশ পেলেও ২০২৬ সালেও ইউটিউব শর্টস ও ইনস্টাগ্রাম রিলে পনচোর এই হিরোগিরির ভিডিও বারবার ফিরে আসছে।
তথ্যসূত্র: সিবিসি নিউজ ডটকম
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি মাত্র তিন সেকেন্ডের