ঈদের পর পেট ও হজমশক্তি ভালো রাখতে কী করবেন
· Prothom Alo

এক মাস সংযমের পর ঈদের ছুটিতে টানা কয়েক দিন পোলাও, কোরমা, মিষ্টান্ন আর রেড মিটের ভূরিভোজ আমাদের শরীরের ওপর বেশ বড় ধরনের ধকল সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত তেল, মসলা আর চিনির আধিক্য পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ অনেকটাই নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ঈদের পর অনেকেরই অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। উৎসবের এই ধকল কাটিয়ে শরীরকে পুনরায় সুস্থ ও হালকা করে তুলতে পুষ্টিবিদেরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন।
Visit casino-promo.biz for more information.
১. পানির বিকল্প নেই
ঈদের খাবারের মাধ্যমে শরীরে যে টক্সিন বা বর্জ্য জমা হয়েছে, তা বের করে দেওয়ার প্রধান উপায় হলো প্রচুর পানি পান করা। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। সকালে হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে তা লিভার পরিষ্কার করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।
সিডনিতে মাঠের বাইরে ফুটবলারদের একটি দিন২. আঁশজাতীয় খাবারের আধিক্য
ঈদে সাধারণত মাংস ও রিচ ফুড বেশি খাওয়া হয়, যাতে ফাইবারের পরিমাণ খুবই কম থাকে। তাই ঈদের পর কয়েক দিন খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। আঁশজাতীয় খাবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং হজমপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে পেঁপে, শসা ও লাউয়ের মতো সবজি পেটের জন্য বেশ আরামদায়ক।
৩. প্রোবায়োটিকের জাদু
পেটের অস্বস্তি কমাতে টক দই মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট ফাঁপা কমায়। দুপুরের খাবারের পর এক বাটি টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৪. লাল মাংস ও চিনিকে ‘না’
পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দিতে কয়েক দিনের জন্য গরু বা খাসির মাংস এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। এর বদলে মাছ, পাতলা ডাল বা সবজি খান। চিনিযুক্ত পানীয় বা সোডার বদলে ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করুন।
৫. খাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন
একবারে অনেকটা না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। খাবার খুব ভালোমতো চিবিয়ে খান, যা লালাগ্রন্থিকে সক্রিয় করে এবং হজমে সহায়তা করে। মনে রাখবেন, রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে সেরে ফেলা জরুরি।
৬. শারীরিক সক্রিয়তা
ভারী খাবার খাওয়ার পর আলসেমি জেঁকে বসতে পারে। তবে শরীরকে সচল রাখা জরুরি। প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে অন্তত ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি আপনার বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে সচল রাখবে।
বিশেষ পরামর্শ
ঈদের পরপরই হঠাৎ করে খুব কঠোর ডায়েট শুরু করবেন না। এতে শরীর আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বরং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ঈদের আনন্দ উদ্যাপন হোক সুস্থ শরীরের সঙ্গে। পরিমিতিবোধ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে উৎসবপরবর্তী শারীরিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে।