ইউপি চেয়ারম্যানকে বের করে কার্যালয়ে তালা ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের, নিয়ে গেলেন সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ
· Prothom Alo

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর চালিয়ে টেবিল ও কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। খুলে নিয়ে যাওয়া হয় সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ। গতকাল রোববার বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে ভাটরা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Visit xsportfeed.quest for more information.
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার দুপুরে ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শামছুল আলম পরিষদ কার্যালয়ে যান। কিছুক্ষণ পর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হানের নেতৃত্বে ছয়–সাতজনের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে তাঁরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল নিতে আসা বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে আজ দুপুরে ভাটরা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এলাকাবাসী। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামছুল আলম বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলাম। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হানের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। একপর্যায়ে তাঁরা আমাকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে তাঁরা বিভিন্ন ক্রেস্ট ও কাচের গ্লাস ভাঙচুর করেন এবং সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যান।’
ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামছুল আলম।
তবে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে একটি কিন্ডারগার্টেনে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানতে পারি। বিষয়টি জানার জন্য গতকাল আমি ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। তবে ইউপি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এলাকার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা দেওয়ার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভজহির রায়হান আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।