খেলার আগে নির্ভার থাকতে কোন সিনেমা দেখেন বিরাট কোহলি
· Prothom Alo

ভারতের নির্মাতা প্রিয়দর্শন দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে অনেক জনপ্রিয় কমেডি চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, এখন আর কমেডি বানাতে তেমন আগ্রহ নেই তাঁর। এমনকি কমেডি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে তিনি একধরনের ভয়ও অনুভব করেন। মজার বিষয় হলো—ভারতের তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি নাকি ম্যাচের আগে নির্ভার থাকতে তাঁর একটি ‘ফ্লপ’ কমেডি সিনেমা দেখেন!
‘কমেডির রাজা’ এখন কমেডিতেই অনিশ্চিত
ভারতীয় চলচ্চিত্রে কমেডি ঘরানার কথা উঠলে প্রথমেই যে কয়েকজন পরিচালকের নাম আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রিয়দর্শন। মালয়ালম ও হিন্দি—দুই ভাষাতেই তিনি অসংখ্য সফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তাঁর সিনেমার বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুতগতির গল্প, ভুল–বোঝাবুঝির মজার পরিস্থিতি এবং চরিত্রদের অদ্ভুত আচরণ।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
প্রিয়দর্শন। নির্মাতার ফেসবুক থেকেতবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন বলেন, এখন আর আগের মতো নতুন কমেডির ধারণা পাচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, তিনি মনে করেন, কমেডির জন্য প্রয়োজন নতুনত্ব ও চমক, আর সেই জায়গাটাই এখন কঠিন হয়ে গেছে। তিনি জানান, সম্ভবত আর একটি কমেডি চলচ্চিত্র বানাবেন, এরপর এই ধারার কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে চান।
‘ফ্লপ’ সিনেমাই কোহলির পছন্দ
প্রিয়দর্শনের কথায় আরেকটি মজার তথ্যও সামনে এসেছে। তিনি জানান, বিরাট কোহলি ম্যাচের আগে মানসিক চাপ কমাতে তাঁর নির্মিত কমেডি সিনেমা ‘ঢোল’দেখেন। বিষয়টি কিছুটা বিস্ময়কর, কারণ মুক্তির সময় সিনেমাটি খুব একটা ব্যবসাসফল হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটি নতুন করে জনপ্রিয়তা পায়। এখন অনেক দর্শকের কাছেই এটি একটি ‘কাল্ট কমেডি’ হিসেবে পরিচিত।
‘ঢোল’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবিব্যর্থতার ধাক্কা
প্রিয়দর্শন বলেন, তাঁর কিছু কমেডি সিনেমা মুক্তির সময় প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। বিশেষ করে ‘ঢোল’ ও ‘খাট্টা মিঠা’ বক্স অফিসে ভালো না করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। একজন নির্মাতার জন্য নিজের কাজ ব্যর্থ হতে দেখা সহজ নয়। তিনি জানান, তখন মনে হয়েছিল, দর্শক হয়তো আর তাঁর কমেডি ধরনকে গ্রহণ করছেন না। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
স্ট্রিমিং যুগে নতুন জীবন
তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তাঁর পুরোনো সিনেমাগুলো নতুন দর্শক পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন তাঁর পুরোনো কমেডি নতুন করে আবিষ্কার করছেন। এ প্রসঙ্গে প্রিয়দর্শন বলেন, তখন যে সিনেমাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল, সেগুলোই এখন অনেক দর্শকের প্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে একসময়কার হতাশা এখন কিছুটা প্রশান্তিতে বদলে গেছে।
সিরিয়াস সিনেমার দিকে ঝোঁক
প্রিয়দর্শন জানান, এখন তিনি বরং গম্ভীর বা সিরিয়াস ধরনের সিনেমা নির্মাণে বেশি আগ্রহী। তাঁর মতে, একজন নির্মাতার জন্য সময়ের সঙ্গে নিজের ধরন বদলানোও জরুরি। যদিও দর্শকের কাছে তিনি মূলত কমেডি নির্মাতা হিসেবেই পরিচিত, তবু তিনি মনে করেন, নতুন ধরনের গল্প বলার মধ্যেই নির্মাতার সৃজনশীলতা বেঁচে থাকে।
দর্শকের ভালোবাসাই শেষ কথা
প্রিয়দর্শনের বক্তব্যে যেমন হতাশার সুর আছে, তেমনি আছে দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতাও। কারণ, মুক্তির সময় ব্যর্থ হওয়া অনেক সিনেমাই পরে দর্শকের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার—ভারতের অন্যতম সফল ক্রিকেটার যদি সত্যিই ম্যাচের আগে তাঁর ‘ফ্লপ’ কমেডি দেখে মন হালকা করেন, তাহলে সেটাই হয়তো একজন নির্মাতার জন্য সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে