এবার অবৈধ ঘোষিত পাল্টা শুল্ক ফেরত দিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে
· Prothom Alo

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত মাসে ট্রাম্পের যে পাল্টা শুল্ক বাতিল করেছেন, দেশটির আমদানিকারকদের সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির ফেডারেল আদালতের আরেক রায়ে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত আদেশ দিয়েছেন, গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হবে। ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন বিভাগকে এই অর্থ ফেরতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ফেডারেল আদালতের বিচারক রিচার্ড ইটন আদেশে বলেন, যেসব আমদানিকারকের পণ্যের ওপর ওই আইনের আওতায় শুল্ক বসানো হয়েছিল, তারা সবাই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
কীভাবে এবং কত দ্রুত এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি ইতিমধ্যে ওই শুল্কের পরিবর্তে নতুন আমদানি কর আরোপের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শুল্ক ফেরতের সম্ভাবনা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন।
এই রায় মূলত টেনেসিভিত্তিক কোম্পানি অ্যাটমাস ফিলট্রেশন টেকনোলজির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে। বিচারক জানিয়েছেন, শুল্ক ফেরতসংক্রান্ত অন্য মামলাগুলোর শুনানি তিনি নিজেই করবেন।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন হার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করার পরিপ্রেক্ষিতে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট যে আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করেছেন, তার বিকল্প হিসেবেই নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ওই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে আনুমানিক ১৩০ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আদায় করেছিল।
এদিকে বৈশ্বিক পরিবহন ও কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফেডেক্সসহ কয়েকটি বড় কোম্পানি আদালতে মামলা করে শুল্কের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি করেছে। এদিকে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তবে বাতিল হওয়া শুল্ক পরিশোধ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রশাসন ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। অর্থাৎ শুল্ক ফেরত দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
শুল্ক ফেরতের দাবিতে গঠিত ছোট ব্যবসায়ীদের জোট ‘উই পে দ্য ট্যারিফস’–এর প্রতিনিধি ড্যান অ্যান্থনি আদালতের এই রায়কে বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, মার্কিন ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। দ্রুততার সঙ্গে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পুরো শুল্ক ফেরত পাওয়ার অধিকার আছে। এর চেয়ে কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আমদানি শুল্কনীতি কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গত বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয় সেদিন। এর পর বিভিন্ন দেশ শুল্কহার কমাতে বাণিজ্য আলোচনায় বসে। বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ানোর অঙ্গীকার করে।
জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে—এ যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত মাসে এই পাল্টা শুল্ক বাতিল করে দেন। একই সঙ্গে মেক্সিকো, কানাডা ও চীন থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর ঘোষিত শুল্কও বাতিল করা হয়।