শুরু হয়েছে ‘হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬’

· Prothom Alo

ধানমন্ডির উৎসবকেন্দ্র মাইডাস সেন্টারে আজ থেকে শুরু হয়েছে হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা তিন দিনের এই মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫৮ জন উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন।

Visit amunra-opinie.pl for more information.

বাংলাদেশের একমাত্র ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পোর্টাল হাল ফ্যাশনের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ঈদ ইভেন্ট হাল ফ্যাশন ফিয়েস্তা ২০২৬। এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষক জিসেবে আছে নবাবী বাই এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস ও ইউসিবি।  

অনুষ্ঠানে অতিথিরা

আয়োজনের পরিসরে আপাতদৃষ্টিতে মেলা মনে হলেও এই আয়োজনে উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়েছে সকাল থেকেই। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মাইডাস সেন্টারের ১২ তলার এক্সিবিশন হলে এই আয়োজন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের ৫৮ জন অনলাইনভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবারের মেলায় অংশ নিয়েছেন। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেকহোল্ডারদের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই হাল ফ্যাশনের এ উদ্যোগ।

নবাবীর স্টলে অতিথিরা

২০২৫ সালে প্রথমবারের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারের ‘ঈদ ফ্যাশন ফিয়েস্তা’ আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে; বেড়েছে সময় ও পরিসর দুটোই।
আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, জনপ্রিয় দেশীয় ব্র্যান্ড সাদাকালোর সত্ত্বাধিকারী আজহারুল হক আজাদ, বিশিষ্ট ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহা,  রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ফ্যাশন ব্র্যান্ড অঞ্জন’স–এর শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার  আব্দুস সালাম সরদার,  এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডসের অপারেশনাল চিফ মোহাম্মদ শাহেদুজ জামান, কোরিওগ্রাফার ও মডেল আজরা মাহমুদ, কে ক্রাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান,  প্রথম আলোর পরামর্শক মুনির হাসান ও অভিনয়শিল্পী রুনা খান।

মেলায় কেনাকাটার ব্যস্ততা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন হাল ফ্যাশনের কনসাল্ট্যান্ট ও হেরিটেজ টেক্সাটাইল এক্সপার্ট শেখ সাইফুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, দেশীয় শিল্পের প্রসারে কাজ করে যাওয়াই হাল ফ্যাশনের লক্ষ্য। প্রথম আলোও শুরু থেকেই এই প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। মুনির হাসানও পাকিস্তানী শিল্পের বিস্তারে দেশীয় শিল্পের বিলুপ্তির আশংকাকে তুচ্ছ করে দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।
আজরা মাহমুদ বলেন, এই ধরণের মেলায় যাঁরা অংশ নেন তাদের সঙ্গে কাজ করারও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এই ধরণের মেলায় আসলে নিজের বেশ ভালো লাগে বলে মন্তব্য করেন আব্দুস সালাম সরদার। তিনি বলেন, এসএমই সবসময়েই এই ধরণের উদ্যোগের পাশে আছে।
আজহারুল হক আজাদ বলেন, এখানে যেসব উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন তাঁরা চমৎকার কাজ করছেন। তাদের সমর্থন দিতে পারলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিরই লাভ হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা

হাসান আরিফ বলেন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় হচ্ছে। দেশের বাজার বাড়ছে। এখন সময় বাইরে যাওয়া। রপ্তানি করার। এজন্য রপ্তানি উন্নয়ন বোর্ডের যা করণীয় সেটা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।
খালিদ মাহমুদ খান বলেন, তাঁর যখন ব্র্যান্ড শুরু করেন তখনকার চেয়ে এখন কাজ করা অনেক সহজ হয়েছে। তবে সবাই ভাল কাজও করছে।
রুনা খান জীবনের প্রথম উপার্জন দিয়ে দেশীয় পণ্য কিনেছেন। সেই ধারা তিনি বজায় রেখেছেন বলে জানান।

চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, দেশিয় ফ্যাশনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম আলোর বিশেষ ভূমিকা আছে। আমাদের ফ্যাশনের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক আসলে আমাদের ক্রেতা। তাছাড়া আমরা সবাই বাংলাদেশী। এদেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। নিজস্ব চিন্তাধারা বজায় রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব।

পণ্য দেখছেন চন্দ্র শেখর সাহা

পরে অতিথিরা মেলা ঘুর দেখেন। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তাদের পণ্য নিয়ে কথা বলেন। অনেকে কেনাকাটাও করেন।

অনুষ্ঠানে কথা বলছেন আবদুস সালাম সরদার

এবারের আয়োজনকে বলা হচ্ছে ‘মেলার চেয়েও বেশি কিছু’। সুতরাং, বিশেষ চমক থাকছেই।  প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন ‘ডিজাইনারস’ ডে’ হিসেবে উদযাপিত হবে, যেখানে দেশের স্বনামধন্য ডিজাইনাররা স্টল পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তৃতীয় দিন ‘ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি ডে’ তে এ দেশের দুই শীর্ষ ফ্যাশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) ও শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মেলা ঘুরে দেখবেন এবং তাঁদের মতামত তুলে ধরবেন।

মেলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে  নবাবী বাই এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড এবং পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে  ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। এছাড়াও ক্রেতাদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র এবং আকর্ষণীয় উপহার। রিকশা পেইন্টিংয়ের বিশেষ আকর্ষণ ফটোবুথে ছবি তুলে #haalfashioneidfiesta2026 ও #haalfashionista হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলে বাছাইকৃত পাঁচজন পাবেন বিশেষ উপহার ও হাল ফ্যাশনের পরবর্তী শুটে মডেল হওয়ার সুযোগ। তাঁরা নির্বাচিত হবেন হাল ফ্যাশন ফ্যাশনিস্তা। পাশাপাশি উপহার পার্টনার হিসেবে এই আয়োজনের অংশ হয়েছে  ঢাকার আটটি পাঁচতারকা হোটেল, ফ্যাশন ব্র্যান্ড ব্লুচিজ ও টিংকার’স টি।

এই মেলায় বিশেষ সংযোজন হিসেবে আছে ট্রায়াল রুম। সাধারণত এ ধরনের মেলায়  এই ব্যবস্থায় দেখা যায় না। পোশাকের পাশাপাশি গয়না, বিষমুক্ত পণ্য, খাবার, অ্যাকসেসরিজ ও লাইফস্টাইল সামগ্রী নিয়ে অংশ নিচ্ছে অসংখ্য দেশীয় ব্র্যান্ড।

কথা বলছেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হাসান আরিফ

ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য এক ছাদের নিচে উপস্থাপনের এই উদ্যোগ ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠেছে এক মিলনমেলা। সকালের দিকে ভীড় না থাকলেও দুপুর হতেই জমে উঠেছে মেলা। আয়োজকরা আশা করছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে দেশীয় পণ্য কেনাকাটার মাধ্যমে এবারের ঈদ প্রস্তুতি হবে আরও আনন্দময়। বিদেশী পণ্যের জাকজমক ছাপিয়ে দেশীয় পণ্যে ঈদে নিজস্বতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

এই মেলায় বিশেষ সংযোজন হিসেবে আছে ট্রায়াল রুম। সাধারণত এ ধরনের মেলায়  এই ব্যবস্থায় দেখা যায় না। পোশাকের পাশাপাশি গয়না, বিষমুক্ত পণ্য, খাবার, অ্যাকসেসরিজ ও লাইফস্টাইল সামগ্রী নিয়ে অংশ নিচ্ছে অসংখ্য দেশীয় ব্র্যান্ড।

বক্তব্য দিচ্ছেন আনিসুল হককথা বলছেন খালিদ মাহমুদ খান

ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য এক ছাদের নিচে উপস্থাপনের এই উদ্যোগ ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠেছে এক মিলনমেলা। সকালের দিকে ভীড় না থাকলেও দুপুর হতেই জমে উঠেছে মেলা। আয়োজকরা আশা করছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে দেশীয় পণ্য কেনাকাটার মাধ্যমে এবারের ঈদ প্রস্তুতি হবে আরও আনন্দময়। বিদেশী পণ্যের জাকজমক ছাপিয়ে দেশীয় পণ্যে ঈদে নিজস্বতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

ছবি: দীপু মালাকার

Read full story at source