পাহাড়ি ৩৫ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ চুক্তির চরম বরখেলাপ

· Prothom Alo

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অপাহাড়ি ব্যক্তিকে মনোনীত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাহাড়ের ৩৫ বিশিষ্টজন। তাঁরা বলেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তি চরমভাবে বরখেলাপ করা হয়েছে। তাঁরা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বিবৃতিটি।

Visit truewildgame.online for more information.

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় রাঙামাটি-২৯৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে পদায়ন করার সিদ্ধান্তকেও তাঁরা সাধুবাদ জানান। তাঁরা আশা করেন, নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবদমান সমস্যা ও সংকট নিরসন এবং পাহাড়ের অধিবাসীদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষম হবে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (ঘ) খণ্ডের ১৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, “উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে।” এই ধারা অনুসরণ করে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করলেও আমরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠিত যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দিনকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তির উক্ত ধারা ভঙ্গ করেছে নবনির্বাচিত সরকার।’

বিবৃতিদাতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম–সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে পাহাড়ের অধিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে নির্বাহী সংস্থা হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পাহাড়ের আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কাজেই এটা খুবই স্বাভাবিক যে মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত নির্বাহী দায়িত্বে যতজনই থাকুক না কেন, সবাই পাহাড়ি বা পাহাড়ের অধিবাসী পাহাড়ি নাগরিক হবেন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম–সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের এবং অপাহাড়ি একজনকে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তিকে চরমভাবে বরখেলাপ করা হয়েছে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘আমরা এযাবৎ লক্ষ করেছি যে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিযুক্তির ক্ষেত্রে পাহাড়ের পাহাড়ি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত নগণ্য। এ ক্ষেত্রে পার্বত্য চুক্তির মূল প্রস্তাবনা—‘পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল’ হবে, তার প্রতিফলনও আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে বর্তমানে সরকারের নেত্বেত্বে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফার ২ নম্বর দফার ‘সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা (রেইনবো নেইশন)’ প্রতিষ্ঠার ধারণা’র সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করতে বিবৃতিদাতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি জানান। এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের কর্মকতা ও কর্মচারী নিযুক্তির ক্ষেত্রে পাহাড়ি আদিবাসী নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘ক’ অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভপতি বিজয় কেতন চাকমা, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মং উষা থোয়াই মারমা, জুম ঈসথেটিক কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমা, সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়নের সভাপতি মংক্যশৈনু (নেভী), অধ্যাপক মধুমঙ্গল চাকমা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, উন্নয়নকর্মী নমিতা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নব কুমার চাকমা, চিত্রশিল্পী জিংমুলিয়ান বম, লেখক জিরকুং সাহু, লেখক ক্যসামং মারমা, প্রকৌশলী মোহনী রঞ্জন চাকমা, সুরেন্দ্র লাল চাকমা, জহর বিকাশ চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, শিক্ষাবিদ প্রসন্ন কুমার চাকমা, আদিবাসী পাহাড়ী বৈদ্য শাস্ত্রীয় বহুমুখী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শুক্র কুমার চাকমা, ইন্দুলাল চাকমা, সাংবাদিক সাথোয়াই মারমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি পলাশ কুসুম চাকমা, যতীন বিহারী চাকমা, সাগর রানী চাকমা, বিজয় গিরি চাকমা, সংস্কৃতিকর্মী থুয়াসা খিয়াং, মালেকা চাকমা, হেডম্যান চন্দ্রশেখর তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাঙামাটি শাখার সহসভাপতি লোমা লুসাই, সমাজকর্মী স্মৃতি শংকর চাকমা, নারীনেত্রী শান্তিমায়া ত্রিপুরা, শিল্পী জুনান তঞ্চঙ্গ্যা, মইচা প্রু মারমা, শ্যামা চাকমা, এবং সাংবাদিক ত্রিপন জয় ত্রিপুরা।

Read full story at source