আমাদের ভাষা কি ‘cng’ হয়ে যাচ্ছে
· Prothom Alo

স্কুল থেকে ফিরেই প্রভা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বসে পড়ল সোফায়। মা ছুটে এলেন এক গ্লাস লেবুর শরবত নিয়ে। মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী হয়েছে? আজকে এত ক্লান্ত দেখাচ্ছে কেন?’ কোনো বিরতি না দিয়েই প্রভা বলে উঠল, ‘আরে মা জানো না, আমাদের ক্লাসের স্যার এত প্যারা দেয়, এত ডেলুলু! সে ভাবে আমাদের পড়াশোনা ছাড়া আর কোনো কাজই নেই। এমন অরালেস টিচার কখনো দেখি নাই।’
Visit fish-roadgame.online for more information.
ক্লাস নাইনে পড়া প্রভার কথা দ্বিধান্বিত হয়ে শুনে গেলেন মা। আবছা আবছা বুঝতে পারলেন ঠিকই। কিন্তু পুরো অর্থটা বুঝে উঠতে পারলেন না। এতটুকু বুঝলেন যে মেয়ের মেজাজ যথেষ্ট খারাপ। এখন তাকে না জ্বালানোই ভালো।
প্রভা আর তার মায়ের গল্প এখন দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ঘরেই। জেন আলফারা যেভাবে বড় হচ্ছে, যে গতিতে ছুটছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না মা–বাবা। সন্তানদের সঙ্গে তাল মেলানো দূরে থাক, তাদের মনের ভাব বুঝতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। প্রভা যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করছে, নিজের বিরক্তি আর রাগ ঝাড়ছে, প্রভার মা সেই ভাষা বুঝতেই পারছেন না। শুধু বয়সের পার্থক্য নয়; বরং দুজনের মধ্যকার ‘জেনারেশন গ্যাপ’ বদলে দিচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্কও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে বদলাচ্ছে পৃথিবী, সেভাবেই দুই প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিস্তর ফারাক। আরও সহজ করে বললে এখনকার মা–বাবা কিংবা শিক্ষকেরা ফোমোতে ভুগছেন।
টাইম লস মানেই অরা লস!
এখন যাঁরা মা–বাবা, তাঁদের অধিকাংশই মিলেনিয়াল প্রজন্মের মানুষ। অর্থাৎ তাঁদের জন্ম ১৯৮০ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে। কাগজে–কলমে তাঁদের বলা হয় ‘মিলেনিয়াল জেনারেশন’। অনেকে আবার তাঁদের ‘ব্রিজ জেনারেশন’ও বলেন। কারণ, অ্যানালগ পৃথিবী আর ডিজিটাল পৃথিবীর মধ্যে যোগসূত্র শুরু করেছিলেন তাঁরাই। তাঁদের সময় থেকে পৃথিবী একটু একটু করে উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। টিভি সহজলভ্য হয়েছে, মানুষে মানুষে যোগাযোগ বেড়েছে, বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। ল্যান্ডফোন থেকে শুরু করে বাটন ফোন পেরিয়ে পেয়েছেন টাচস্ক্রিন। টিভিতে একমাত্র চ্যানেল থেকে স্ট্রিমিংয়ে সিনেমা দেখার স্বাদ পেয়েছেন তাঁরা। অতঃপর যখন প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়েছেন, তখন দেখেছেন ইন্টারনেটের আবির্ভাব। কিন্তু তাঁদের ছোটবেলা গড়ে উঠেছে একটা গণ্ডির মধ্যে। যেখানে মা–বাবা, পরিবার আর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেই তাঁদের ভাষা আর ব্যবহারের চর্চা হয়েছে।
একাধিক ভাষা জানলে জীবনের শেষ দিকে যে সুবিধা পাওয়া যায়কিন্তু জেন আলফা তো আর তেমন নয়। জেন আলফার জন্মই হয়েছে ইন্টারনেটের উত্থানের সময়ে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই জেন আলফার সদস্য। আর তাদের বড় হয়ে ওঠা এমন একটা সময়ে, যখন মুঠোফোন সবার হাতে হাতে। এই যুগের প্রত্যেকেই কমবেশি মুঠোফোন হাতে পেয়েছে পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সে। বেড়ে ওঠার সময় সেভাবে টিভির চ্যানেল ঘোরাতে হয়নি; বরং ইউটিউব থেকে নিত্যনতুন কার্টুন চালিয়ে দিয়েছেন মা–বাবা নিজে থেকেই। কার্টুন না দেখতে পারলে কিংবা ফোনে গেম খেলতে না পারলে গলা দিয়ে খাবার নামত না অনেকেরই। এ জন্যই হয়তো তাদের চাওয়া-পাওয়ার গল্পটাও বদলে গেছে ভেতর থেকেই। স্কুলের হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে কথা বলা—এমন অনেক কিছুতেই শর্টকাট খুঁজতে চায় জেন আলফারা। কম ‘প্যারা’ নিয়ে কাজটা শেষ করে ফোনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া জেন আলফাদের কাছে অস্বাভাবিক নয়। হাতের মুঠোয় ফোন, এক ক্লিকেই সব তথ্য হাজির। যে তথ্য এক ক্লিকে পাওয়া সম্ভব, তার জন্য দুই পা হেঁটে কষ্ট করা কেন? শুধু শুধু রিজ নষ্ট করার মানে আছে? এই কষ্ট না করার প্রভাবটাই পড়ছে মুখের ভাষার ওপর।
ভাষা যেভাবে cng হয়
ভাষাকে ধরা হয় প্রবহমান নদীর মতো। যত পথ যাবে, তত বাঁক বদলাবে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। পৃথিবীর বহু ভাষা পরিবর্তন না হতে পেরে হারিয়ে গেছে। মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারলে ধীরে ধীরে সে ভাষা হারিয়ে যায়। ভাষার নিজস্ব ক্ষমতা আছে বদলে যাওয়ার। জেন আলফাও নিজেকে গড়ে তুলেছে সেভাবেই। সাহিত্য বা পাঠ্যবই তো আছেই, কিন্তু মূলত তারা ভাষা শিখছে শর্ট ফর্ম কনটেন্টের মাধ্যমে। অ্যানিমে, কার্টুন দেখছে ইউটিউবে, স্ট্রিমিং সাইটে; টিকটক থেকে পাচ্ছে বিনোদন। লম্বা ভিডিও দেখছে ১.৫ স্পিডে। খুব দীর্ঘ সিনেমা দেখা কিংবা বই পড়ার ক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি টের পাচ্ছে অনেকেই। ইউটিউব শর্টস, টিকটকের বদৌলতে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে এসেছে। অন্যদিকে রোবলক্স কিংবা মাইনক্রাফটের মতো গেম খেলে নিত্যনতুন কিছু আবিষ্কার করার মানসিকতাও তৈরি হয়েছে।
নেটিজেনদের কাছে cng মানে চেঞ্জ। একইভাবে তাদের মধ্যে চলে এসেছে স্কিবিডি, সিগমার মতো শব্দ। জেন আলফাদের মুখে মুখে ভেসে বেড়ানো অনেক শব্দই পূর্ণাঙ্গ শব্দ নয়; বরং শব্দের শর্ট ফর্ম। কনটেন্ট আর মনোযোগের মতো শব্দটাও এখন তৈরি হচ্ছে শর্ট ফরম্যাটে। ভেবে দেখো তো, বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে, খেলার মাঠে কিংবা গল্পের ফাঁকে যেভাবে কথা বলো, তার কতটুকু প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহার হতে দেখো? মা-বাবা, ভাইবোনদের কথায় তার কতটুকুরই–বা ব্যবহার থাকে? ইন্টারনেটের জগতে যে ভাষাগুলো গড়ে উঠছে, সেগুলোই আস্তে আস্তে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ, বর্তমান সময়ে বাইরের জগৎটাও আটকে গেছে সেই স্ক্রিনের মধ্যেই। সেখানে ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে কাউকে বোঝানোর দরকার নেই, অন্যে কী ভাবল। সেটা দেখারও সময় নেই। মুখের ওপর ‘বেইসড’ বলে দেওয়াটাই যথেষ্ট।
রোমানি জিপসিদের ভাষায় এত বাংলা শব্দ এল কোথা থেকেIYKYK
আমি জানি শিরোনাম দেখে অনেকের চোখ কুঁচকে যাবে। বিশেষ করে যাঁরা লেখাটা সম্পাদনা করবেন, তাঁদের। কিন্তু শিরোনামটা তোমাদের বুঝতে সমস্যা হবে না, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কথাটা তো বুঝতেই পারছ—If You Know You Know.
ভাষার এই ‘শর্ট ফর্ম’ অবশ্য শুরু হয়েছিল জেন জি-দের হাত ধরে। ইন্টারনেটের শুরুর দিকে বড় বড় শব্দ কিংবা ‘ফ্রেইজ’কে ছোট করে লেখার প্রচলন শুরু হয়। সেগুলোকে ঠিক ‘শর্ট ফর্ম’ না বলে অ্যাক্রোনেইম বললেই ভালো শোনায়। মূলত লম্বা দুই বা তিন শব্দের একটা বাক্যকে প্রথম অক্ষর দিয়ে বলে নতুন একটা শব্দতে পরিণত করাকে বলা হয় অ্যাক্রোনেইম। বিটিডব্লিউ, এলএমকে, ওএমডব্লিউ, ওএমজি, এফআর শব্দগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ২০১৪-১৫ সালের দিকে। তখনকার সময়ে ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামে শর্ট ফর্মে লেখাই ছিল ট্রেন্ড। কিন্তু সে সময় অ্যাক্রোনেইমের শব্দের পেছনে মূল অর্থ এবং ‘ফ্রেইজ’ ঠিকঠাকই ছিল। অর্থাৎ কেউ না বুঝলেও পুরো বাক্যটা যদি ভেঙে বলা হয়, তাহলে ঠিকই বুঝতে পারবে।
কিন্তু নতুন জেনারেশনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে ট্রেন্ড। এখন আর বড় শব্দকে ছোট করে বলার ট্রেন্ডের পাশাপাশি অ্যাক্রোনেইম পালটে এসেছে সত্যিকারের শর্ট ফর্ম—যেখানে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন শব্দ। যখন যে মনের ভাব প্রকাশ করা লাগছে, তার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হচ্ছে নতুন শব্দ। পুকি শব্দটার কথাই ধরো, আদর করে প্রিয় মানুষকে অনেকেই ডাকে পুকি। অনেকে আবার পুকি বলতে ভালো মানসিকতার মানুষকেও বোঝায়। ‘ফ্লেক্স’ দিয়ে ভাব দেখানো যেমন বোঝানো হয়, তেমনই খুব ভালো বোঝাতে ব্যবহার করা হয় ‘বাসিন’।
কিছু কিছু শব্দের অর্থ আবার পালটে যায় ব্যবহারের ওপর। এই যেমন ধরো স্কিবিডি, এই শব্দ দিয়ে ভালো কিছুও বোঝাতে পারে, আবার খারাপ কিছুও বোঝাতে পারে। মূল অর্থটা হলো অতিরঞ্জিত বা হাস্যকর। এখন সেটা তোমার ভালো লাগার ওপর নির্ভর করছে, নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করবে, না ইতিবাচক।
শেষমেশ গরুও যন্ত্র ব্যবহার শুরু করল?সব সময় যে নতুন করে শব্দ তৈরি করা লাগছে, তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার পুরাতন শব্দকে নতুন করে ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন অর্থে। এই যেমন ধরো ‘কুক’, সাধারণ অর্থ রান্না করা। অথচ ব্যবহারভেদে কুক মানে যেমন বিব্রতবোধ করানো বোঝায়, তেমনই আবার অস্বস্তিতে ফেলাও বোঝায়। আবার ‘লেট হিম কুক’ বলে অন্যকে উৎসাহও দেওয়া হয়, যাতে কাজটা চালিয়ে যায়।
কিছু শব্দ নিজেদের ছেঁটে ফেলে জায়গা করে নিয়েছে নেটিজেনদের মুখে—ডিলিউশনাল থেকে ‘ডেলুলু’, কারিজমা থেকে ‘রিজ’ কিংবা সাসপিশিয়াস থেকে ‘সাস’। সব কটিও তাদের অর্থ ধরে রেখেছে নিজেদের মতো করে, কিন্তু শব্দগুলো ছোট হয়ে এসেছে মুখে মুখে।
অ্যাক্রোনেইমও যে একেবারে হারিয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়। সময়ের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে টিকে আছে ‘গোট’—গ্রেটেস্ট অব অল টাইম।
শর্ট ফর্মে কথা বলার শুরুটা ইন্টারনেট আর মিমের কল্যাণে হলেও এখন বাংলা ভাষাতেও বেশ কিছু শব্দ জায়গা করে নিয়েছে। শুরুতেই একটা উদাহরণ দিলাম, প্যারা। একটা সময় প্যারা বলতে লোকে প্যাড়া সন্দেশ বুঝত। মিষ্টির দোকানের সামনে গিয়ে প্যাড়া খাচ্ছি বললে তোমার প্লেটে একটা প্যাড়া সন্দেশও ধরিয়ে দিতে পারে। তবে এখনকার সময়ে প্যারা মানে হলো ঝামেলা। আবার ধরো আগুন, কঠিন, সেই–ই কিংবা জটিল, জোশ। ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হলেও ব্যবহৃত হয় অনেক ভালো বা দারুণ কিছু বোঝাতে। আর যদি উল্টোটা বোঝাতে হয়, তাহলে তো ক্রিঞ্জ আছেই। আর ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারা’ তো ব্যবহৃত হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু কোপের অর্থ বদলে হয়ে গেছে দারুণ কিছু করাতে। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হলে বলতে শুনি—কোপ হবে কোপ। আর সেই পরীক্ষার রেজাল্ট যদি ভালো হয়, আমরা তো বলি—পুরা কোপায় দিছে রে মামা!
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু ভাষাপুরোনো মানেই ক্রিঞ্জ নয়
শুরুতে প্রভার গল্প বলেছিলাম মনে আছে? প্রভার মা–বাবা তবু তার কথা শোনে, বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু লাবীবের মা–বাবা সেদিকে একেবারেই নারাজ। ছেলেকে প্রমিত ভাষায় কথা বলতে হবে, তাকে সব নিয়মকানুন–প্রণালি মেনে চলতে হবে। এতকিছু মেনে চলার মতো অবস্থায় লাবীব নেই। যে কারণে বাসার ভেতরে কথা বলাও একেবারে কমে গেছে লাবীবের।
অনেক মা–বাবা কিংবা শিক্ষকের কাছে নিত্যনতুন এসব ভাষার ব্যবহার হয়ে উঠছে অস্বস্তিকর। মা–বাবা যদি সন্তানের মনের ভাব বুঝতে না পারেন, তাহলে দিনে দিনে দূরত্ব শুধু বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তৈরি হবে প্রজন্মের ব্যবধান। যে ব্যবধান ঘোচানোর দায়িত্ব যে শুধু মা–বাবার তা কিন্তু নয়; বরং দায়িত্ব কিছুটা তোমাদের ঘাড়ে এসেও বর্তায়। কারণ, পুরোনো সবকিছুই যে খারাপ, তা কিন্তু নয়। জেন-জি বা জেন আলফার ভাষা তো তোমরা জানোই, তৈরিও করছ নতুন নতুন শব্দ। এর সঙ্গে প্রমিত ভাষার ব্যবহার জানা থাকলে এগিয়েই থাকবে তুমি। যারা শব্দগুলো তৈরি করছে শর্ট ফর্মে, তারা কিন্তু প্রমিত ভাষা থেকে শব্দটা নিচ্ছে। ফলে মূল ভাষাটাও তোমার জানা থাকা জরুরি।
ভাষা আজীবনই প্রাণ পায় তারুণ্যের হাত ধরে। এক শ বছর আগেও বাংলায় সবকিছু লেখা হতো সাধু ভাষায়। চলিত ভাষা ছিল মুখের ভাষা, কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে লেখায় ব্যবহারের কথা ভাবতেও পারত না। প্রমথ চৌধুরীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল চলিত ভাষার প্রচলন, এখন সবকিছু লেখা হয় সেই চলিত ভাষাতেই। যুগের সঙ্গে ভাষা হয়তো বদলেছে, কিন্তু আগের জ্ঞান ঠিকই রয়ে গেছে প্রতিটি পৃষ্ঠায়। ‘চর্যাপদ’–এর ভাষার সঙ্গে আজকের ভাষার মিল না থাকলেও জ্ঞানটা ঠিক একই রকম আছে। বই পড়ে, নাটক-সিনেমা দেখে যে জ্ঞান অর্জন করা যায়, তা নিশ্চয় শর্ট ফর্মের কনটেন্টে খুঁজে পাবে না। তেমনই প্রতিটি ভাষার যে সৌন্দর্য, তা লুকিয়ে থাকে তার গল্প-কবিতা আর সাহিত্যে। সেই গল্প না পড়লে, সেই কবিতায় ডুব না দিলে কীভাবে জানবে, কী মিস করছ! পরে আবার না পড়ে ফোমোতে ভুগবে না তো!
‘ক্রিটিক্যাল ইগনোরিং’ কী, ২০২৬ সালে টিকে থাকার জন্য এই দক্ষতা কেন জরুরি