এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প

· Prothom Alo

বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আজ শুক্রবার দেওয়া এ রায়ের ফলে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ট্রাম্প শুল্ককে যেভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, তা আটকে গেল।

Visit milkshake.it.com for more information.

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে ছয়জন এ রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন তিন বিচারপতি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সমর্থিত বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) রয়েছে, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ওই শুল্ক আরোপকে আইনবহির্ভূত বললেও এর আওতায় এখন পর্যন্ত যে ১৩০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র আদায় করেছে, তার কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করছেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা নজিরবিহীনভাবে ব্যবহার করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পাল্টা শুল্ক’। এ ছাড়া মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

রায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন কনজারভেটিভ বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থী তিন বিচারপতি। তাঁদের এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। এর আগে দেশটির নিম্ন আদালত বলেছিলেন, আইইইপিএর অধীনে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক অবৈধ ছিল। আজকের রায়ের বিপক্ষে ছিলেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ, ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।

আদালতের এই রায় নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই–পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রগরি ডাকো এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গড় শুল্ক হার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এই কমাটা সাময়িক সময়ের জন্য হতে পারে। কারণ, নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ খুঁজতে পারে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিকে ইঙ্গিত করে শুল্ক নীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এরিকা ইয়র্ক বলেন, আদালতে এই রায়ের মাধ্যমে ‘প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশিমতো সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করবে’। তবু প্রেসিডেন্টের কাছে শুল্ক আরোপের জন্য অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহার করার সুযোগ রয়ে গেছে।

Read full story at source