টিসিবির ট্রাকে পণ্য কেনার টোকেন পেতেই ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা

· Prothom Alo

আজ বেলা ১১টার আগে থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন ৬০ বছর বয়স্ক আলেয়া বেগম। তেজকুনীপাড়া থেকে তাঁর সঙ্গে এসেছেন সমবয়সী কুলসুম বেগম। তবে বুকে ব্যথা থাকায় পাশে বসে ছিলেন কুলসুম বেগম। ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর বিকেল চারটার আগে তাঁরা পণ্য কেনার টোকেন পেয়েছেন। পণ্য পেতে তাঁদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে অনেকেই অপেক্ষার পরও টোকেন পাননি। কারণ, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দিনে ৪০০ জনকে পণ্য দিতে পারে; কিন্তু লাইনে আরও বেশি মানুষের অপেক্ষা থাকে।

Visit catcrossgame.com for more information.

বুধবার বিকেলে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আলেয়া বেগম বলেন, ‘মাল নিতে গিয়ে জোহরের নামাজ মিস গেছে। এখন বিকেল হয়ে গেছে। আসরের নামাজও মিস হবে।’ আবার নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলছেন, ‘তাও তো টোকেন পেয়েছি, মাল পাব।’

রমজান মাস উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ২০ দিন ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি (ট্রাক সেল) শুরু করেছে টিসিবি। এ বিক্রি কার্যক্রম চলবে ১২ মার্চ পর্যন্ত। টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি ছোলা, এক কেজি চিনি এবং আধা কেজি খেজুর কিনতে পারছেন। এর মধ্যে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রাখা হচ্ছে ১১৫ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা ও খেজুরের দাম ১৬০ টাকা।

খেজুরের মান সম্পর্কে কয়েকজন ক্রেতা এই প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন তোলেন। সংসদ ভবনের সামনে টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে এসপিএ এন্টারপ্রাইজ। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ১৬০ টাকা ভর্তুকি মূল্যে খেজুর বিক্রি করছি আমরা। বাজারে এটার (জাহিদি খেজুর) দাম ৪০০ টাকা। ভর্তুকি মূল্যে আর কতটা ভালো দেওয়া যায়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর টোকেন পেয়ে দেখাচ্ছেন আলেয়া বেগম। সংসদ ভবনের সামনে থেকে

সারা দেশে মোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন (ছুটির দিন ছাড়া) নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকবে। এভাবে ট্রাক সেলের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যেকোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। তবে রমজানে মানুষের চাহিদা বেশি থাকায় লাইন ঠিক রেখে তাঁদের পণ্য দিতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানান বিপ্লব সরকার। তিনি বলেন, এখানে হাজারের বেশি মানুষ হয়ে যায়। তাই আরও বেশি বরাদ্দ পেলে হয়তো বেশি মানুষকে দেওয়া যেত।

একই কথা বলছেন আশপাশের কয়েকটি সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা। নাম না প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, ‘২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে আমাদের পণ্য নেওয়া সম্ভব না। অফিস করতে হয়। আবার অফিস শেষ করে এসে টোকেন পাই না। তাই বরাদ্দ বাড়ালে আমাদের জন্য ভালো হতো।’

টিসিবির ট্রাকে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন

এদিকে টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি জায়গায় ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি, অপর ৭টি মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৫টি জেলায় ৫টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ট্রাক সেলের নির্দিষ্ট কোনো সময় বাধা নেই। শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

Read full story at source